প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস

শিবগঞ্জ উপজেলার হৃদয়ে অবস্থিত দাড়িদহ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক উজ্জ্বল প্রদীপ। ১লা জানুয়ারি ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠ দীর্ঘ সময় ধরে অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের তীর্থক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

এর শিক্ষামূলক সাফল্য ও মানসম্মত কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে ১লা জানুয়ারি ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়, যা এর যাত্রাপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২.৬৭ একর আয়তনের সুবিস্তৃত এই ক্যাম্পাস সবুজের সমারোহে ঘেরা, যা একদিকে মনোরম পরিবেশ তৈরি করেছে এবং অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও সহপাঠ কার্যক্রমের জন্য আদর্শ অবকাঠামো গড়ে তুলেছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয় এবং এখানে বিজ্ঞান ও মানবিক—উভয় বিভাগেই পাঠদানের সুযোগ রয়েছে। আধুনিক শিক্ষার চাহিদা পূরণে বিদ্যালয়টিতে রয়েছে সজ্জিত কম্পিউটার ল্যাব, উন্নতমানের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং প্রশস্ত খেলার মাঠ। এই সুবিধাগুলো শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি প্রযুক্তি জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও শারীরিক বিকাশে সহায়তা করে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, বরং জাতীয় পর্যায়েও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। বহু শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত রয়েছে। এছাড়া অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী কর্মজীবনে দেশ ও জাতির সেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে—যা এই প্রতিষ্ঠানটির গৌরবকে চিরউজ্জ্বল করে রেখেছে।

শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন গঠনের পাশাপাশি তাদের চরিত্র গঠনের মূলমন্ত্রে বিশ্বাসী দাড়িদহ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় তার পথচলায় ধারণ করেছে একটি অনন্য স্লোগান— "শিক্ষার জন্য এসো, সেবার জন্য বেড়িয়ে যাও।"